দেওয়ান নাঈম, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি:
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৫ নং গাজিরভিটা ইউনিয়নের গাবরাখালী গ্রাম। এই গ্রামে আনুমানিক ৬০টি ছোট-বড় পাহাড় রয়েছে। প্রতিটি পাহাড়ের উচ্চতা আনুমানিক ৭০ থেকে ১৫০ ফুট।
সৌন্দর্যমন্ডিত মনোমুগ্ধকর গাবরাখালী পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।পাহাড়গুলোতে সারি সারি শাল, গজারি, সেগুন ও প্রাকৃতিক লতাপাতা আর পাহাড়ের ঢালে শ্যামল বৃক্ষরাজির মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা। আবার কোথাও গহীন জঙ্গল আর পাখির কলরব প্রকৃতিপ্রেমীদের আপন করে নেয়।
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট আর ধোবাউড়া উপজেলাকে ঘিরে রেখেছে মেঘালয়ের তুরা ও গারো পাহাড়সহ বড় বড় সব পাহাড়। বাংলাদেশের প্রাথমিক-মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তক সমূহে এবং সমাজবিজ্ঞান ও ভূগোলসহ সাধারণ জ্ঞানের বই, বিসিএস গাইড কিংবা বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রশ্নে ‘ময়মনসিংহের গারো পাহাড়’ বলে দেশের যে বৃহত্তম পাহাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়, তা বাস্তবতার সাথে কোনও মিল নেই। গারো পাহাড় যা আছে সব ভারতের মেঘালয়ে।
স্বাধীনতাপূর্বে গাবরাখালী এলাকায় আদিবাসী হাজং ও বানাই জনগোষ্ঠির বসবাস ছিলো। বর্তমান সেখানে মুসলমান, হিন্দু, গারো জাতির বসবাস। গাবরাখালীর পাশেই ভারতীয় সীমানা। তাই এখান থেকে উপভোগ করা যায় ভারতেরও প্রাকৃতিক অপরূপ দৃশ্য। দেখা যায় ভারতীয় মানুষের কোলাহল।
সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে এই গাবড়াখালী পাহাড়ে গড়ে উঠতে পাড়ে পর্যটনকেন্দ্র। এখান থেকে প্রতি মৌসুমে কোটি কোটি টাকা সরকারী রাজস্ব আয় হতে পারে।
গাবরাখালীর এক পাহাড়ে মাহবুব শাহ নামে একটি মাজার রয়েছে যা দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, মোঃ মাহবুব আলম নামে এক ব্যক্তির মাজার এটি। তিনি বিহারী ছিলেন এবং সেনাবাহিনীতে চাকুরি করতেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাপূর্বে গাবরাখালীতে এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি গাবরাখালীর পাহাড়গুলোতে গরু চরাতেন এবং সর্বদা তার কাঁধে গরুর রশি ঝুলিয়ে রাখতেন। গাবরাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মতিউর রহমান বলেন, আমরা তখন ছোট। মোঃ মাহবুব আলম এ- অঞ্চলে ‘আলম সাধু’ নামে পরিচিত ছিলো। তিনি আমাদের দেখে তাঁর মুখে জিহ্বা দ্বারা ঠেলা মেরে সব দাঁত ফেলে দিত। আমরা তা দেখে আশ্চর্য হয়ে যেতাম।
পরে জানতে পারি তাঁর মুখে কৃত্রিম দাঁত লাগানো ছিলো। তিনি ১৯৮৫-৯০ সালে মারা গেলে এখানে মাজার গড়ে ওঠে। এবং প্রতি বছর ব্যাপক আয়োজনে ওরস উদযাপন হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY