ভিন্ন খবর সংবাদ : নারীদের অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদারকে আটক করেছে পুলিশ। তার বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটায় তাকে আটক করা হয়।

শরীয়তপুরের গোঁসাইরহাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘চাঁদপুর থেকে শরিয়তপুরে আসার পথে ফরিদগঞ্জের কুশার হাট নামক স্থানে শাইট্টার ব্রিজের পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।’ পুলিশ জানায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা আরিফ আরেক নারীর সঙ্গে প্রেম করতে এসেছিলো।

পুলিশ জানায়, নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতো আরিফ। ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহূর্ত সে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে রাখতো। এরপর সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বারবার অন্তরঙ্গ হতো। এভাবে দিনের পর দিন নারীদের ধর্ষণ করতো আরিফ।

তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ৯(১) ধারায় মামলা করেন ভুক্তভোগী এক নারী।

আরিফ হোসেন নারায়ণপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলো। ফেসবুকে আরিফের অশ্লীল ভিডিও ও ছবি দেখার পরপরই চারিত্রিক স্খলনের দায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকেই আরিফ পলাতক ছিলো।

বিষয়টি নিয়ে আরিফ অনেকটা নিজেই নিজের ফাঁদে পড়েছে বলে মনে করছেন পুলিশ। শরীয়তপুরের বোসাইরপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান জানান: কিছুদিন আগে আরিফ হোসেন হাওলাদার থানায় আসে একটি জিডি করতে। যেখানে সে অভিযোগ করে, কিছু লোক হিংসাপরায়ণ হয়ে তার ব্যক্তিগত তথ্য ও ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এরপরই বিষয়টি অনুসন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ। তখনই বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশের হাতে সেসময় এসে পৌঁছে ছাত্রলীগের এ নেতার ৬ জন নারীর সাথে ধারণকৃত খোলামেলা ভিডিও চিত্র। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।’

পুলিশের ধারণা, শুধু এ ৬ নারীই নয়, বরং আরও অনেকের সাথেই আরিফ এমনটা করেছে। যে মোবাইল বা ডেস্কটপ থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানো হয়েছে সে বিষয়েও অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

জানা যায়, পরিচিত কোনো নারীকে একা পেলেই নিজের মুঠোফোনের ক্যামেরা চালু করে তার ঘরে ঢুকে পড়তো আরিফ। কথার ছলে কিছুটা অন্তরঙ্গ হলেই শুরু করতো অশ্লীল আচরণ। সেসময় ভুক্তভোগী নারী প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে শুরু হতো ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে সেই ধস্তাধস্তির ভিডিও দেখিয়েই ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতো ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে।

তার এ অপকর্মের শিকার হয়েছেন গ্রামের কলেজ পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী, নিজের চাচাতো বোন ও প্রবাসীর গৃহবধূ। পুলিশ বলছে, আরিফের নামে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা ও পর্নেগ্রাফি অ্যাক্টে মামলা হবে।-চ্যানেল আই

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY