fresh sugarcane in garden

দেওয়ান নাইম হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
নানা কারণে আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কৃষকরা। এক সময় প্রচুর আখ চাষ হলেও বর্তমানে কমে আসছে আখের উৎপাদন। আখ বাংলাদেশের একটি লাভজনক ফসল। এখানকার মাটি আখ চাষের উপযোগী হলেও নানা সমস্যার কারণে আখ চাষ থেকে প্রতি বৎসর আগ্রহ হারাচ্ছেন উপজেলার জুগলী ও শাকুয়াই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আখ চাষিরা।
আখের রসের উপকারীতা আমাদের অজানা নয়, আখের রস জন্ডিস রোগের বহুল প্রচলিত একটি পরীক্ষিত ঔষধ। এছাড়াও আখের রস স্বাস্থের জন্য উপকারী। আখের ছাল দিয়ে কাগজ, বোর্ড সহ নানা সরঞ্জাম তৈরী করাহয়। এছাড়াও আছের ছাল ভাল জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এ বৎসর উপজেলার নৈয়ারীকুড়া, ছোটদাসপাড়া, যাদুকুড়া, মনকান্দা, ভাট্রা, ভাট্রা নয়াপাড়া, পিকা কৃষ্ণনগর ও বালিচান্দা এলাকায় ‘কোয়েম্বেতর’ ও ‘মুন্সীগঞ্জ’ জাতের আখ ৫০ একর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা কৃষকরা জানান, এক সময় পুরো এলাকা জুড়েই আখের আবাদ হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে আখের দাম কম হওয়া, ভালো চারা না পাওয়া, যোগাযোগ প্রতিকূলতার কারণে বাজারজাত করতে সমস্যা এবং বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি হওয়ায় কৃষকরা আখ চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
মনকান্দা গ্রামের আখচাষি আব্দুর রহিম জানায়, আখ চাষ করতে যে পরিশ্রম ও খরচ হয় সে তুলনায় তেমন লাভ হচ্ছে না। তাই দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। প্রতি বছরে কার্তিক মাসের শুরুতেই জমি নির্বাচন করে আখের চারা রোপন করে প্রচুর পরিমাণে সার কীটনাশক স্প্রে করে পুরো এক বছর লেগে যায় বিক্রির উপযোগী করে তুলতে। এজন্য এক মৌসুমী এই আখ চাষ বাদ দিয়ে ওই জমিতে সবজি চাষ করে বেশি লাভজনক হওয়া যায় বলে তিনি জানান।
বাজারে বিক্রয় করতে আসা এক আখচাষী জানায়, বাজারে আখের চাহিদা কম। চাহিদা কম হওয়ায় ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছেনা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায় বলে ক্ষেত থেকে আখ কাটতে দ্বিগুন পারিশ্রমিক দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায়না। তাই বাধ্য হয়েই আবাদের পরিমাণ কমিয়ে ফেলেছি। অথচ বছরের অর্ধেক সময় একই জমিতে আখ চাষ না করে শুধু দুইবার ধান চাষ করলে লাভ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহমদ জানান, এ বছর উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে আখ এর আবাদ হয়েছে। তিনি আশা করেন, আগামী অর্থ বছরে হালুয়াঘাটে আখ চাষের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। আখ চাষিদের আমরা তেমন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় এবং কারিগরী জ্ঞান সম্পর্কে সমৃদ্ধ করা যায় সে ব্যাপারে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।
সরকারিভাবে আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য, আখের রস, রস থেকে গুড় উৎপাদনের ব্যবস্থা করলে এলাকায় ব্যাপক হারে আখ চাষ হবে। এতে করে চাষিরাও উৎসাহী হবেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY