জাতীয় সংবাদ : বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১০ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো প্রতিবন্ধিতার শিকার বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

তবে এদের মধ্যে এখন অবধি তালিকাভুক্ত হয়েছে ১৫ লাখের কিছু বেশি, অর্থাৎ এক শতাংশের কম।

১১ তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রবিবার সচিবালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

মেনন বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, বিশ্বের ১৫ ভাগ মানুষ কেনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার। … এ হিসাবকে অনুসরণ করলে আমাদের দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যাদের বাদ দিয়ে সার্বিক উন্নয়ন হবে না।’

মেনন জানান, বাংলাদেশে ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা জানতে জরিপ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী দেশে অটিস্টিকের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৬৭৫ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী ছয় লাখ ৯১ হাজার ৪৮৩ জন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা আছে ৫২ হাজার ৮৪৬ জনের।

এর বাইরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই লাখ ১৪ হাজার ৯৫৪ জন, বাক প্রতিবন্ধী এক লাখ ১৪ হাজার ৪৮৯ জন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক লাখ ২২ ৩০৪ জন, শ্রবণ প্রতিবন্ধী ৪৫ হাজার ৬৪৬, শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছয় হাজার ৫১৫, সেরিপালসি ৬৯ হাজার ৯৩৪ জন।

এর বাইরে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা আছ ১৭ হাজার ৯৭২ জন, আর ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত তিন হাজার ৫৫ জন এবং অন্যান্য ১২ হাজার ৯১১ জন।

১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হলে এই সংখ্যাটা এক কোটি ৬০ লাখ হওয়ার কথা। তাহলে সংখ্যাটা এত কম কেন-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জরিপ শেষ হয়ে যায়নি। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এই তথ্য আছে।’

অটিজম সচেতনতা দিবস সোমবার

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার অটিজম সচেতনতা দিবসের মূল প্রতিবাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়ন, হোক না তারা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন’।

দিবসটি পালনের আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনে নীল বাতি প্রজ্জ্বালন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তিনদিন জ্বলবে এই বাতি।

মন্ত্রী বলেন, ‘অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা আমাদের সমাজের বাইরের কেউ নয়। অটিজম বা প্রতিবন্ধিতা কোন অভিশাপও নয়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা জীব বৈচিত্রের অংশ।’

‘অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিদের আগে দয়া বা করুণার দৃষ্টিতে দেখা হতো। কিন্তু আমাদের সমাজে মাথা উঁচু করে চলবার জন্য বাংলাদেশের সংবিধান তাদের অধিকার অর্পণ করেছে। সুতরাং সমাজে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা প্রতিটি অটিতম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার।’

পুরস্কার পাচ্ছেন নয় জন

মন্ত্রী জানান, অনুষ্ঠানে তিনটি শাখায় তিন জন করে মোট নয় জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হবে।

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সফল ব্যক্তি হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন রাফিদ আহসান, ফারহান সায়ীদ তানিশা, তাহমিদ হুসাইন আকিফ।

অটিজম নিয়ে অবদান রাখা ব্যক্তির মধ্যে পুরস্কৃত হচ্ছেন শিরিন জামান মুনির, সাবিনা হোসেন, নায়লা জামান খান।

আর অটিজম নিয়ে অবদান রাখায় পুরস্কার পাবে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো: প্রয়াস বিশেষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশন এবং প্যারেন্টস ফোরাম ফর ডিফারেন্টলি অ্যাব।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY