শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নৈশ্বর্গিক দৃশ্যের গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বটগাছটিতে শতাধিক মৌচাক বসেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঐহিত্যবাহী ওই বটগাছটি শেরপুরের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী বটগাছটিকে ঘিরেই ১৯৯৩ সালে গড়ে ওঠে পিকনিক স্পট গজনী অবকাশ কেন্দ্র। এ গাছটির ডালপালা ভেঙ্গে গিয়ে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছটির যতটুকুই রয়েছে তাতে বসেছে শতাধিক মৌমাছির মৌচাক। এসব মৌচাকগুলো স্থানীয় দূর্বৃত্তরা মাঝে-মধ্যেই কেটে নিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে তা আরও বৃদ্ধি পাবে। ওই মৌচাকগুলো গজনী অবকাশ কেন্দ্রের একটি বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তা দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এসে ভীড় করছে।
প্রকাশ থাকে যে, শেরপুরের সীমান্ত অঞ্চলে নয়নাভিরাম ও প্রাকৃতিক সুন্দর্যের লিলাভূমিতে নান্দনিক দৃশ্যে ভরা গজনী-অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রটি এবার নতুন করে জাতীয় পার্ক হিসাবে গড়ে তুলার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বনাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। এতে দূর-দূরান্তের ভ্রমন পিপাশুদের আনন্দ ভ্রমনের অনেকটা পথ সুগম হলো। এই পার্কে রয়েছে, পাতালপুরীর ড্রাগন, ঝড়না, শিশুপার্ক চিড়িয়াখানা, ডাইনেসন, ময়ূরডিঙ্গি, পদ্মসিড়ি, সাইড ভিউ টাওয়ার, মুক্তমঞ্চ, গাড়োমাতৃ ভিলেজ, ঝুলন্ত ব্রীজ, গারো আদিবাসীদের হাতের তৈরী পোশাকশিল্প, স্থাপত্যশিল্পসহ বিশাল শাল বন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণার্থীদের জন্য রয়েছে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা। পরিশ্রান্তদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগার। এছাড়া পার্ক জুড়ে রয়েছে দেশী-বিদেশী ও হাতের তৈরী পণ্য সামগ্রীর দোকান সমূহ। ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার বিশ্বাসের তদারকিতে সার্বক্ষনিক একদল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে। যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তাই নির্বিঘেœ দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমন পিপাশুরা উক্ত পিকনিক স্পটটিতে ভ্রমন করার সুযোগ রয়েছে ভ্রমন পিপাশুদের।

উল্লেখ্য, এই গজনী-অবকাশ পিকনিক স্পটটি গড়ে তুলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন সেই সময়ের জেলা প্রশাসক আব্দুস ছালাম। এবং পরবর্তীতে ব্যাপক এলাকার নিয়ে পিকনিক স্পটটির ধারবাহিক কার্যক্রম শুরু করেন আব্দুস ছাত্তার। আর তারই ধারাবাহিকতায় আজ শেরপুরের গজনী-অবকাশ পিকনিক স্পটি ন্যাশনাল পার্কে রূপান্তরিত হয়ে দেশের দর্শনীয় স্থান হিসাবে শেরপুর জেলার নাম পরিচিতি লাভ করবে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY