ষ্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে সরকারের কর্মসৃজন কর্মসূচী বাস্তবায়নের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসব ও লুটপাট প্রতিরুধে তথ্য প্রদানে কালক্ষেপনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের পরও লুটপাটের গডফাদার গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন সম্পূর্ন নিরব।তার দেয়া তথ্য মতে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৭০০ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরীতে ৪০ দিন কাজ করবে। এতে সরকারের ব্যায় হবে ২ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা।এই টাকা সম্পূর্ন কাগজে কলমে লুটপাটের সম্পূর্ন প্রক্রিয়া শেষ করে বর্তমানে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হয়েছে এবং চলছে।বিষয়টি সম্পূর্ন নিশ্চিত হওয়া যায়, দূর্যোগ ব্যবস্হাপনা উপ-প্রকৌশলী মাজহারুলের সাথে কথা বলে।যার সর্বশেষ স্বাক্ষরে সারা উপজেলার শ্রমিকের টাকা উত্তোলন হয়।তিনি একজন মেম্বারকে বলেন, সমস্ত জব কার্ডই তো আপনারা এসে আমার নিকট হইতে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন প্রকৃত শ্রমিক ছাড়াই ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে লুটপাটের জন্য।এই লুটপাটের ব্যাপারে সরকারের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদারকি কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান,সকল লুটপাটের মূল গডফাদর উপজপলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।নিয়ম অনুযায়ী উক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য প্রথমেই আমাকে চিঠির মাধ্যমে জানানোর কথা।কিন্তু এখানে পি,আই,ও আমাকে চিঠি তো দূরের কথা মৌখিকও পর্যন্ত জানায় নি।কাজ কবে শুরু, কবে শেষ আমি কিছুই জানিনা।তাছাড়া সৃজিত কাগজে কলমে দেখানো কাজের সময় আমি কর্মস্হলেই প্রায় ২০ দিন উপস্হিত ছিলাম না।কাজ তদারকি করার প্রশ্নই আসে না।কাজ তদারকি তো দূরের কথা কয়টি প্রকল্প,কোথায় প্রকল্প আমি কিছুই জানি না।২০ দিন পর কর্মস্হলে পুনরায় যোগদান করলে জনৈক মেম্বার নয়নের নিকট জানতে পারি সারা উপজেলায় ইতিপূর্বে উক্ত কর্মসূচীর কাজ কাগজে কলমে সম্পন্ন করা হয়েছে।তখন আমি বাধ্য হয়ে বিষয়টি জানার জন্য পি,আই,ও অফিসে নিজেই বেশ কয়েক দিন গিয়ে এর ব্যাখা ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি চেয়েও পায়নি।সব সময় পি,আই,ও বলেছে সময় হলে সব হবে। পরবর্তীতে টাকা উত্তোলনের জন্য শ্রমিকের জব কার্ড সহ সকল সৃজিত কাগজ পত্রাদিতে আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলে।এতে আমি অস্বীকার করলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়, ভীতি দেখিয়ে পি,আই,ও সংশ্লিষ্ট সকলের যোগসাজসে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাগজে,কলমে সৃজিত সকল অবৈধ্য কাগজ,পত্রাদি ও জব কার্ডে জোর পূর্বক আমার স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং বর্তমানে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে লুটপাটের মহোৎসব চালাচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সকলেই শতকরা % নিয়ে শুধুমাত্র সৃজিত কাগজে,কলমে কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে এসব লুটপাট করছে।আমি খুবই আসহায়।আমি একটু প্রান খুলে নিঃশ্বাস নিতে চাই।চাই আপনাদের সহযোগীতা।তদারকি কর্মকর্তার সূত্র ধরে কথা হয় কয়েক জন শ্রমিকের সাথে।বেরিয়ে আসে আরও ভয়াবহ লুটপাটের সচিত্র দলিল!!!তারা জানায়,চলতি অর্থ বছরের ১ ম ধাপের কাজ করা,টাকা উত্তোলন সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা।আমরা ব্যাংকেও পর্যন্ত যায়নি।তবে,এখন শুনছি আমাদের তালিকায় নাম আছে।ঐ ১ ম ধাপের সমস্ত টাকাই তো এরা লুটপাট করেছে।এখন শুনছি আপনারা পত্রিকায় লেখা লেখি করতাছেন।তাই হয়ত কয়েকটা কার্ড এই মাত্র আমরা দু এক জন শ্রমিক হাতে পেয়েছি লোক দেখানোর জন্য।আজ বা কাল সুযোগ মত টাকা তুলব। শ্রমিকের কথার প্রমান পাওয়া যায় ১ ম ধাপের কর্মসূচীর টাকা লুটপাটে চেয়ারম্যান খোকা’র বিরুদ্ধে বেশ কয়েক জন মেম্বার সাংবাদিক সম্মেলন করেন ।যা বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে। গৌরীপুর জনতা ব্যাংকে শ্রমিকের টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান রমিজের হাতে শ্রমিক হয়েছে লাঞ্চিত।যা জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেন।গৌরীপুর কলতাপাড়া কৃষি ব্যাংক ম্যানেজার জানান,চলিত বছরের ১ ম ধাপের কাজের টাকা শ্রমিক ছাড়া সিন্ডকেটের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করলে আমি সহ আমার সকল ষ্টাফ নির্যাতিত ও লাঞ্চিত হয়েছি ডৌহাখলা ইউঃ চেয়ারম্যান শহীদের হাতে।সাহায্য চেয়েছি উপর মহলে প্রতিকারের আশায়।আমাদের কেউ সাহায্য করেনি কোন ধরনের।বর্তমানেও আমি খুবই অসহায়!এই যদি হয় সরকারের নেয়া গৃহীত কর্মসৃজন কর্মসূচী বাস্তবায়নের নমুনা তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বেন কি দিয়া?এটাই বর্তমানে গৌরীপুরবাসীর একমাত্র ভাবনা!!!

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY