মোছা. আনোয়ারা বেগম, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:
বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছরের শুরুতেই দফায় দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য হয় অত্রাঞ্চলের কৃষকদের ফসল। প্রথম দফায় ক্ষতিগ্রস্থ্য হয় বোরো ফসল, দ্বিতীয় দফায় দীর্ঘ স্থায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য হয় রোপা আমন ফসলসহ শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসল। এতে বহু দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীরা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়ে অসহায় হয়েছে বহু পরিবার। ফসল ছাড়াও মৎস্য চাষীদের মৎস্য খামার বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সর্বশান্ত হয়েছে মাছ চাষীরা। বন্যার পানির তোরে গ্রামীন অবকাঠামোর রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট, ঘর-বাড়িসহ অনেক ক্ষয়-ক্ষতি নষ্ট হয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েক দফা বন্যায় ফসলহানির ফলে চালের দাম বাড়তে থাকে, সেই সাথে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম। শেরপুর জেলায় বন্যার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় শাক-সবজি, কাঁচা তরি-তরকারী, পেঁয়াচ, কাঁচা মরিচ, চাউল, আটাসহ অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে নি আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন মহা বিপাকে।
প্রকাশ থাকে যে, অত্র জেলার সিংহ ভাগ লোকই কৃষক। আর এই সিংহ ভাগ কৃষকের আয়ের উৎস কৃষি ফসল। কৃষি ফসল উৎপাদন করেই তাদের জীবন-জীবিকা চালায়। তাই কৃষকেরা ধান ও পাটের পাশাপাশি নানা জাতের সবজি চাষ করে থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগ এর কারণে কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ক্ষেত ভারী বর্ষণ-শীলা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে নষ্ট হয়ে যায়। এতে যেমন কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে তেমনি সবজি উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্থ্য হওয়ায় সবজির মূল্য লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। আলু, বেগুন, টমেটো, গাজর, চাল কোমড়, কড়ল্লা, পুটল, কাকরুল জিঙ্গে, কদু, বরবটি, পুঁইশাক, লাল শাক, গাঙ্গাসহ অন্যান্য সবজির দাম ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি বেগুনের মূল্য ৩০ টাকা থেকে হয়েছে ৬০ টাকা কেজি, জিঙ্গে ২৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, কড়ল্লা ৩০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, কদু ২০ থেকে ৪০ টাকা কেজি হয়েছে। বন্যার কারণে সবজির ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় প্রায় সবগুলি সবজির দাম ২/৩ গুন বেড়েছে প্রতি কেজিতে। এবছর দু’দফা বন্যায় ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠা কৃষকদের পক্ষে সম্ভব না। এই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকদেরকে সরকারী ভাবে সুদ বিহীন ঋণ সহায়তা প্রদান করা জরুরী প্রয়োজন বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন। তা নাহলে হলে, ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা আর উঠে দাড়াতে পারবে না। এতে উৎপাদন যেমন ব্যাহত হবে তেমনি দরিদ্র, প্রান্তিক চাষীদেরও মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাবে। বর্তমানেও ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে আবারও নিম্নাঞ্চলসহ বহু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। নতুন করে প্লাবিত এলাকাগুলি হলো, কান্দুলী, ধানশাইল, আয়নাপুর, দুপুরিয়া, কাংশা, চতল, সুরিহারা বগাডুবি, বনগাঁও, জিগাতলা, হাতীবান্দা, মালিঝিকান্দা, রাঙ্গামাটিয়া ও দোহালিয়াসহ আরও বহু এলাকা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY