শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্দা ইউনিয়নের হাতিবান্দা গ্রামে ‘মালিঝি নদীর’ উপর স্বাধীনতার প্রায় ৪ যুগেও নির্মিত হয়নি সেতুটি। বিধ্বস্ত সুইচ গেইটের পাশ দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোন রকমে কাঠ বাঁশ দিয়ে নির্মিত নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ সাঁেকাটি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

ফলে এ পথে যাতায়াতকারী গ্রামবাসী মানুষের পোহাতে হচ্ছে সীমাহিন ভোগান্তি। ওই সেতু দিয়ে পারপারের সময় প্রায় ঘটে দূর্ঘটনা। হাতিবান্দার ইউনিয়নের গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবী মালিঝি নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের। এ দাবী এখন গ্রামবাসীদের দু:খ দূর্দশা লাঘবের দাবী।

ওই গ্রামে সেতুটি নির্মাণ করা হলে স্কুল-কলেজের ও প্রাথমিক বিদালয়ের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ সুগম হবে। একই সাথে গ্রামবাসী কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করা সহজ হবে। গ্রামবাসীরা জানায়, এ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার আবেদন-নিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু আজো এ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়নি। গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে এ নদীর উপর একটি সুইচ গেইট নির্মাণ করা হয়। সুইচ গেইটের পাশ দিয়ে নির্মাণ করা হয় সংযোগ সেতু।

গ্রামের লোকজন বছর খানেক সময় ধরে এ সেতুর উপর দিয়ে পাড়াপাড় হলেও ১ বছর যেতে না যেতেই ইজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের তোড়ে সুইচ গেইট ও সংযোগ সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসী ওই সংযোগ সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে কোন রকমে যাতায়াত ব্যবস্থা চালু রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভাবে সাঁকোটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ কারণে মিরপাড়া, ধারারপাড়, হাতিবান্ধা চকপাড়া, প্রধানপাড়া গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ ওই ভাঙা ও নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া এ সেতুর উপর দিয়ে কৃষকদের কৃষিপণ্য, গবাদি পশু ও রিক্সা, ভ্যান বা মোটর সাইকেল যাতায়াত করতে পারে না। যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রেও উন্নয়ন সাধিত হবে। হাতিবান্দা গ্রামের সফল মাছ চাষী মফিদুল ইসলাম, মুদি দোকানদার সেকান্দর আলী (৩৮) ও আসলাম মিয়া গ্রামের মাতাব্বর আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচন এলে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এ নদীর উপর সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছে ভোট নেন।

কিন্তু নির্বাচনের পর কোন জন প্রতিনিধিরা তাদের আর খোঁজ-খবর নেন না। সাঁকোটির স্থলে একটি পাকা সেতু তৈরি করে দেওয়া হলে গ্রামবাসীর চলাচলে দুর্ভোগের লাঘব হবে। ওই গ্রামের রিক্সা চালক আব্দুল করিম (২৮) জানান, এখানে সেতু না থাকায় তার বাড়িতে রিক্সা রাতে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে না। ফলে প্রতি মাসে ৫’শ টাকা খরচে তার রিক্সা রাতে রাখার জন্য বাড়ির ভাড়া দিতে হয়।

হাতিবান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোজিনা জানায়, বর্ষা মৌসুম বা পাহাড়ী ঢলের সময় এ নদীটিতে প্রবল ¯্রােত থাকে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সাঁকোটি পাড় হতে হয়। হাতিবান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরজাহান বেগম বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। তখন আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।

হাতিবান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পরেই গ্রামবাসীর দাবির পেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকট সেখানে একটি ব্রীজ আবেদন জানিয়েছি। গ্রামবাসীর কষ্ট দূর করতে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ জরুরী দরকার। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ফজলুল হক বলেন, মালিঝি নদীর ওপর পাকা সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব এল.জি.ই.ডি’র প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে সেতু নির্মাণ করা হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY