শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:
সরকার যখন নদী রক্ষায় তৎপর সেই সময় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী নদীর দু’পাড় দখলের মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর লোক নদীর দু’পাড় দখলে মেতে উঠেছে। এতে নদীটির অস্তিত্ব বিলিনের পথে। উল্লেখ্য, ওই মহারশী নদীকে কেন্দ্র করে অত্র উপজেলায় গড়ে এক ঐতিহ্যবাহী বড় বাজার। বাজার থেকে প্রতি বছর সরকার প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব পায় এবং মহারশী নদী থেকে প্রতি বছর বালু মহলের ডাক হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। এতে প্রতি বছর সরকারের ঘরে প্রায় ৪ কোটি টাকা আয় আসে। উক্ত নদীটি নদীটি যদি বেদখল হয়ে যায় তাহলে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাবে অপরদিকে প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই নদীটি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে সচেতন মহল মনে করেন। প্রতিনিয়ত যে ভাবে নদীটির পাড় দখল চলছে এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই নদীটির অসিত্ব হারিয়ে যাবে। প্রকাশ থাকে যে, মহারশী নদীর দু’পাড়ে জেগে ওঠা চর দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে দরিদ্র থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। প্রথমে দরিদ্র কিছু লোক নদীর জেগে উঠে বালুর চরে বসত বাড়ি করে। পরে এই দরিদ্র লোকেরা প্রভাবশালীদের কাছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিক্রি করে অন্যত্রে চলে যায়। আর এই সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর পাড়ের জায়গা দখল করে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছে। এই ভাবেই মহারশী নদীর দু’পাড় দখলদারদের দখলে চলে যাচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ব্যক্তি মালিকানায় চলে যাচ্ছে। বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ঝিনাইগাতীর ঐহিত্যবাহী মহারশী নদিটি।
ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে আসা ঐতিহ্যবাহী মহারশী নদীটি ঝিনাইগাতী উপজেলা নালিতাবাড়ী শেরপুর হয়ে ব্র‏হ্মপুত্র নদে সংযুক্ত হয়েছে। এক সময় এই নদিটি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে বণিকরা নানা জাতের পন্য আমদানী-রপ্তানী করত এই ঝিনাইগাতী বাজারে। তাই মহারশী নদিটি দখলদারদের দখল থেকে মুক্ত করে পুণ: খননের মাধ্যমে নদীটির নাব্যতা ও আগের ঐহিত্য ফিরিয়ে আনা অত্রাঞ্চলের এলাকাবাসীর দাবী ।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রায়হান নদীর দু’পাড়ের যবরদখলকৃত ভূমি পুণ: উদ্ধারের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু তার বদলী হওয়ার কারণে উক্ত নদীর পাড় দখলমুক্ত করণের কাজ থেমে যায়।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY