দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পেশা পরিবর্তনের বিকল্প সুযোগ না থাকায় জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে আগাম শ্রম বিক্রি করে চলতে হয় দিন মজুর সহ নিম্ন আয়ের মানুষদের।

সোমবার সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রামে কথা বলে জানাগেছে, বিকল্প পেশায় দক্ষতা এবং বছরের অর্ধেকেরও বেশী সময় মাঠে কৃষিকাজ না থাকায় গ্রামের ধন্যাঢ্য কৃষকদের কাছে আগাম শ্রম বিক্রি করে চলতে হয় তাঁদের। পরবর্তিতে স্বামী-স্ত্রী-সন্তাান-সন্ততিসহ পরিবারের সবাই মাঠে দিনমজুরীর কাজ করে তা পুশিয়ে নিতে হয়। কেউ তা না করে তবে সারাবছর ঋণের বেড়াজালে আটকে থাকতে হয় তাদের।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের পুর্ন মারাক, রহিলা ¤্রং, মিথিলা হাজং জানান, তাঁরা প্রত্যেকে কার্তিক মাসে স্থানীয় মহাজনদের নিকট হতে ৫কাঠা, ৩কাঠা ও ৬কাঠা জমির ধান কেটে দেওয়ার জন্য টাকা নিয়ে এসেছেন আগাম শ্রম বিক্রি করে। অগ্রহায়ন মাসে ধান কাটার সময় ৭শত টাকা কাঠা হিসাবে তাদের ধান কেটে দিতে হবে। কিন্তু সে সময় কাঠা প্রতি ধান কাটার দর ১১শত টাকা থেকে ১২শত টাকা পর্যন্ত চলে। কুল্লাগড়া ইউনিয়নের রানীখং, বিপিনগঞ্জ গ্রামের শেফালি হাজং, বিজন নকরেক জানান, তারা আগাম শ্রম বিক্রয় করে ১হাজার টাকা নিয়েছেন, ধান কাটার মৌসুমে তাকে প্রতিদিন ১শত টাকা মজুরীতে কম নিতে হবে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, পর পর আগাম বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষদের আগাম শ্রম বিক্রির সুযোগটা কাজে লাগাতে চায় মজুদদার কৃষকগন।

এ ব্যাপারে গাঁওকান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোতালেব বলেন, দুর্গাপুর উপজেলায় পর পর ২টি বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন। কর্মহীন সময়ে হতদরিদ্র দিনমজুরদের জীবিকায়নের জন্য সরকারি ভাবে বিশেষ খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এ অমানবিকতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অত্রএলাকায় স্বল্পমুল্যে চাল সরবরাহ কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY