বিনোদন সংবাদ :  বাংলা চলচ্চিত্রের দুজন নামকরা অভিনয়শিল্পী নায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও নায়িকা সাদিকা পারভিন পপি। একসঙ্গে তারা হাফ ডজনেরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সবগুলো ছবিই দর্শকপ্রিয়। এগুলোর মধ্যে ২০০৩ সালে ‘কারাগার’ এবং ২০০৯ সালে ‘গঙ্গাযাত্রা’ ছবি দুটির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেন পপি। ‘গঙ্গাযাত্রা’র জন্য একই পুরস্কার হাতে ওঠে নায়ক ফেরদৌসেরও।

জনপ্রিয় এ জুটি অভিনীত শেষ ছবি ‘দুই বেয়াইয়ের কীর্তি’। প্রয়াত আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৫ সালে। তিন বছর বাদে আবারও একসঙ্গে হচ্ছেন ফেরদৌস ও পপি। এবার তারা রূপালী পর্দায় আসছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুই কালজয়ী চরিত্র দেবদাস ও পার্বতীর ভূমিকায়।

ছবিটি নির্মাণ করছেন আরিফুর রহমান আরিফ। চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি। পরিচালক বলছেন, ‘দুই অভিনয়শিল্পী ফেরদৌস ও পপির চরিত্রের নাম দেবদাস ও পার্বতী হলেও এটি কিন্তু ‘দেবদাস’ ছবির রিমেক নয়। তারা অভিনয় করবেন ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’ নামের একটি ছবিতে। খ্যাতিমান সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্য জীবন ও তার সৃষ্টি করা অমর চরিত্রগুলো নিয়ে এগিয়ে যাবে এই ছবির গল্প।’

ছবিতে থাকবে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। যেমন, ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের গহর চরিত্রে দেখা যাবে আনিসুর রহমান মিলনকে এবং ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্রের চরিত্রে থাকবেন অভিনেতা, চলচ্চিত্র ও নাট্যনির্মাতা গাজী রাকায়েত। তাদের পাশাপাশি নিরব, তমা মির্জাসহ আরও অনেকেই অভিনয় করবেন। খুব শিগিগিরই ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান নির্মাতা আরিফুর রহমান আরিফ।

দেবদাস চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ফেরদৌস বলেন, ‘কালজয়ী যে কোনো চরিত্রে অভিনয় করা চ্যালেঞ্জিং। এই ছবির ক্ষেত্রে সেটা আরও বেশি। কারণ উপন্যাস নয়, শরৎচন্দ্রের এই চরিত্রকে ভিন্ন এক গল্পের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে। কাজেই এটি ভিন্ন আঙ্গিকের ছবি হবে বলেই আমার বিশ্বাস।’  অন্যদিকে পপি বলছেন, ‘পার্বতী আমার স্বপ্নের একটি চরিত্র। সে চরিত্রে নিজেকে পর্দায় তুলে ধরতে যাচ্ছি- এটা ভাবতেই দারুণ লাগছে। আমার অভিনয় জীবনে নি:সন্দেহে এটি একটি ব্যতিক্রমী কাজ হবে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে নায়ক সালমান শাহ প্রয়াত হলে তার অসমাপ্ত ‘বুকের ভেতর আগুন’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন ফেরদৌস। ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় ছবিতে। কাজ করেছেন কলকাতার বাংলা ও বলিউডের হিন্দি ছবিতেও। অভিনয় দক্ষতা দেখিয়ে চার বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

অন্যদিকে, ১৯৯৭ সালে ওমর সানির বিপরীতে ‘কুলি’ ছবির মাধ্যমে রূপালী পর্দায় অভিষেক হয়েছিল নায়িকা পপির। ক্যারিয়ারে তার অভিনীত দর্শকপ্রিয় ছবির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। মাঝখানে দু:সময় গেলেও পুরো ক্যারিয়ারের হিসেবে এখনও তিনি ঢালিউডের সেরা নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম একজন। তার ঝুলিতেও রয়েছে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY