জহির রায়হান : ফুলপুর-তারাকান্দা, গৌরীপুর, কেন্দুয়া, মদন ও পূর্বধলা প্রভৃতি উপজেলায় অটিজম বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু কিশোরদের জন্য গড়ে উঠেছে একাধিক প্রকল্প। সেখানে অটিজম শিশু কিশোরদের মানসিক বিকাশে স্থানীয় উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে গড়ে উঠেছে অটিজম বিদ্যালয়। কেউ কথা বলতে পারে না, কেউ বলে তুতলিয়ে, কেউবা হাঁটতে পারে না, আসে মা বাবার কোলে বসে। এমন অটিজম, বাক প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার এ কে এম ফজলুল (দুদুমিয়া) অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বামী মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়ার ভাতিজা গোলাম হাসান মিয়া প্রত্যেক স্কুল তৈরীর মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার বিকাশ সহ তাদেরকে উন্নত মানসিকতা নির্ভর করে গড়ে তোলার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরা এই স্কুলটিকে ঘিরে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। তিনি মনে করেন, অটিজম শিশুরাও মানুষ, তাই তাদেরকে অন্য স্বাভাবিক মানুষের মতো সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে এবং তাদের সার্বিক কল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

স্কুলটির পরিচালক তরুণ সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী মাহফুজুর রহমান ও তার সহযোগি হিসেবে তোফাজ্জল হোসেন ভূঞা প্রতিবন্ধীদের প্রতি নিষ্ঠাবান থেকে এটি পরিচালনা করছেন। তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরদের দেখাশোনা করেন পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্যে অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের সার্বিক দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলেছেন।

তারাকান্দায় বগিরপাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ধরনের একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠা এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলটি নিয়ে স্বপ্ন আছে অনেক। এই স্কুলটির মাধ্যমে আশা করেন বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরাও মেধা সম্পন্ন এবং সমাজে তাদের একটা অধিকার আছে এটাই প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা। তারা সরকারী সহায়তা কামনা করে বলেন, সরকার অটিস্টিক শিশু কিশোরদের মেধা বিকাশে তৎপর রয়েছেন।

এদিকে গৌরীপুর বেলতলীতে এম এ সালাম, নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা, বারহাট্টায় আব্দুল কুদ্দুছ, নেত্রকোণার মদন উপজেলার বটতলা বাজারে জাহের উদ্দিন ফুলমিয়া এবং ডাউকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদুজ্জামান তারা প্রত্যেকেই স্বস্ব উদ্যোগে অটিজম শিশু কিশোরদের নিয়ে নিবিড় ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অটিজমদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অটিজম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দিয়ে জন সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফুলপুরে এ.কে.এম এমদাদুল হক, এ.কে.এম শহীদুল হক, এ.কে.এম ওবায়দুল হক। তারাকান্দায় নুরুল ইসলাম, গৌরীপুর এম.এ সালাম, নেত্রকোণায় আব্দুল কদ্দুছ, কেন্দুয়ায় ওয়াহেদুজ্জামান, মদনে জাহের উদ্দিন ফুল মিয়া।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল হক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিনামূলে পাঠ্যপুস্তক ছাড়া কোন সরকারি সহায়তা তারা পায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে একটি ল্যাট্রিন করে দেয়াসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অভিভাবাকগণ জানান, প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়ার অন্য কোন প্রতিষ্ঠান নেই। প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে এই স্কুলগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তবে সেটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। নেই পাকা ভবন। নেই বিদ্যালয়ে আসার মানসম্মত রাস্তা, শিক্ষা উপকরণ ও আসবাবপত্র। যথেষ্ট অভাবের মধ্য দিয়েও চলছে স্কুলটি।

স্থানীয়বাসীর অভিমত অটিজম শিশুদের মনন ও মেধা বিকাশের এই উদ্যোগ অনন্য। তাদের এই কঠিন তপস্যা খুব শীঘ্রই আশা এবং প্রত্যাশা ব্যাঞ্জক হয়ে উঠবে। স্থানীয়বাসী এই আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের মনোবল বুদ্ধিতে লেখাপড়া, খেলাধূলা এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে যেভাবে তাদের অবস্থান থেকে এই কঠিন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা শতভাগ সামাজিক এবং সামাজিকতার উন্নত বহিঃ প্রকাশ। প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন উল্লেখিত ব্যক্তি ও জমিন দাতাদের মাঝে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলা, তবেই স্বার্থক হবে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তথা অটি জমের সুবিন্যস্ত ধারাবাহিকতা। যার মাধ্যমে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরাও যে সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সেটাই প্রমানিত হবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেও এ ব্যাপারে মনিটরিং করা প্রয়োজন যে, উল্লেখিত ব্যক্তিরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করছেন। অবদান রাখছেন দেশ, জাতি ও সমাজকে সমুন্নত করার জন্য।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY