জাতীয় সংবাদ : স্বাস্থ্য  পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যেতে চাইছেন না বলে গুঞ্জনের মধ্যে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানিয়েছেন, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

খালেদা জিয়াকে কখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনা হচ্ছে, এই প্রশ্নের মধ্যে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ইফতেখার।

খালেদা জিয়ার মাইল্ড স্ট্রোক করেছিল বলে শনিবার তার চারজন ব্যক্তিগত চার চিকিৎসকের দাবির পর রবিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনার কথা জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মহা কারাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে এ বিষয়ে খালেদা জিয়া কী চান, সেটাও জেনে নিতে বলেন তিনি।

রবিবার দুপুরের পর থেকেই সাংবাদিকরা অপেক্ষায় ছিলেন।

কিন্তু সেদিন আনা হয়নি বিএনপি নেত্রীকে। সোমবার সকাল থেকেও চলছে অপেক্ষা।

সকাল নয়টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনার কথা ছিল। কিন্তু গতকালের মতো সকাল ১০টা পর্যন্ত তিনি এই হাসপাতালে আসতে রাজি হননি বলে খবর ছড়িয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শকের কথাতেও তার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেল। তিনি বলেন, ‘আমরা উনাকে আগামীকাল সকালে বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাব। বিএসএমএমইউ তৈরি রাখতে বলেছি। তবে উনি যদি রাজি থাকেন। উনার রাজি হওয়ার একটা বিষয় আছে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়া খালেদা জিয়াকে বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে ভর্তির দাবি করছে বিএনপি। শনিবার তার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক জানান, এটি খালেদা জিয়ারও ইচ্ছা।

 

তবে সরকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসকদের মতামতের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে। এর আগে গত ৭ এপ্রিলও কারাগার থেকে বিএনপি নেত্রীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেডে নেয়ার বিষযে এক প্রশ্নে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই।’

তবে সরকার চাইলে বেসরকারি হাসপাতালে কারও চিকিৎসায় অনুমোদন দিতে পারে বলে জানান ইফতেখার। আর সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা খরচ কে দেবে, সেটা আগেই ঠিক করতে হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসে তার চিকিৎসকরা দাবি করেন, ৫ জুন খালেদা জিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। তাদের ধারণা, বিএনপি নেত্রীর মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল।

তবে চিকিৎসকদের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ব্লাড সুগার কমে গিয়েছিল। পরে তাকে চকলেট খাওয়ানোর পর ঠিক হয়ে যায়।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘উনি অজ্ঞান হননি, ইমব্যালেন্সড (ভারসাম্যহীন) হয়েছিলেন।’

গত ২৮ মার্চ থেকেই খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে খবর ছড়ায় আর ১ এপ্রিল গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড।

সে সময় বিএনপি তাদের নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার দাবি তুলে। তবে এ নিয়ে অন্য রাজনৈতিক গুঞ্জন উঠে। পরে বিএনপি অবস্থান পাল্টে খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি করছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY