নেত্রকোনা প্রতিনিধি ঃ
জেলার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের জোয়ালভাঙ্গা গ্রামে রাতের আধারে ড্রেজিং করার সময় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিনের বসত বাড়ি, ফলদ বনজ গাছের বাগান ও আবাদি ভূমি কংশ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ফরিদ উদ্দিন প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কংশ নদী খনন প্রকল্প বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ ড্রেজিং বিভাগ) বরাবরে লিখিত অভিযোগ এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রধান প্রকৌশলী ড্রেজিং বিভাগ বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ, জেলা প্রশাসক নেত্রকোনা বরাবরে অনুলিপি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগে জানা গেছে, জেলার বারহাট্টা উপজেলার জোয়ালভাঙ্গা গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য স্ত্রী সন্তান নিয়ে কংশ নদের তীরে বিভিন্ন দাগের ১৩৭ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসবাস করছিলেন। ওই ভুমিতে বাড়ি ছাড়াও আম গাছ, কাঠাঁল গাছ, রেইনট্রি, কলা, জারুল গাছের বাগান গড়ে তুলেন। গত ১৭ আগষ্ট রাতের অন্ধকারে কংশ নদী খননের নামে প্রকৃত নদীপথ রেখে ফরিদ উদ্দিনের দখলী ভূমি বে-আইনীভাবে ড্রেজার দিয়ে কেটে ফেলা হয়। এতে করে বাগানের ১০ লক্ষাধিক টাকার গাছগাছালি এবং ৯৬ শতাংশ জমি গাছের বাগান ও সব্জি আবাদের ভুমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অবশিষ্ট ভুমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকির মূখে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যন ও এলাকাবাসীকে জানিয়েছেন ফরিদ উদ্দিন। এ ছাড়া বাড়ির জমি, বাগান ও আবাদি জমির ক্ষতিপূরন পাওয়ার জন্য ফরিদ উদ্দিন বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত, নেত্রকোনা বরাবরে প্রধান প্রকৌশলী ড্রেজিং বিভাগ বি.আই.ডব্লিউ.টি.এসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত বিষয়টি শুনানীর জন্য আগামী ২৩ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেছেন।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমি চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে বহু কষ্ট করে ফল, বনজ ও সাক-সবজির বাগান গড়ে তুলেছিলাম। নদী খনন করার সময় আমার নিজস্ব জমি ড্রেজিং করে কেটে ফেলা হয়েছে। নদী ২১২ ফুটের মধ্যে খনন করার কথা থাকলেও ৮০ ফুট রেখে সরকারি হালটের ৩০ ফুটের পর আমার নিজস্ব জমিতে খনন করা হয়েছে। এতে করে আমি দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। জমি ও বাগান নিয়ে আমার প্রায় ৪৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY