স্বাস্থ্য সংবাদ : 

সামঞ্জস্যহীন খাবার
অনেক খাবারই আছে যার একটির সঙ্গে আরেকটি খাপ খায় না। আপনি এক বাটি স্বাস্থ্যকর সালাদের সঙ্গে কুড়মুড়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়ে বসলে মজা লাগবে ঠিকই কিন্তু তা স্বাস্থ্যহানিকর। ব্যস্ত দিনে অনেক সময় সোডার মতো পানীয় বা চিপসের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার আপনার ভেতরটাকে অস্থির করে তোলে। বাড়ি ফিরে যতক্ষণ না ‘আসল’ খাবার খাচ্ছেন, ততক্ষণ ধকল সইতে হবে।

এমন ঘটার কারণ : স্বাস্থ্যকর খাবার বলতে তাই বোঝায় যেখান থেকে পানি, প্রোটিন, ভক্ষণযোগ্য ফাইবার, দুগ্ধজাত উপাদান আর সামান্য ফ্যাট মেলে। এর জন্য সঠিক খাবার বেছে নিতে হবে। অন্যথায় আপনার দেহ, মনে অবসাদ ভর করবে। ভালো লাগবে না কিছু। কাজেই মনোযোগ এলোমেলো হবে। ভালো খাবার আপনার মনের চাপ কমিয়ে আনে।

বেশি বেশি চিন্তা
চিন্তা মানুষ করবেই। কিন্তু অতিমাত্রায় চিন্তা করাটা ভালো নয়, এমনকি তা ভালো চিন্তা হলেও। এতে একসময় অশান্তি ভর করে মনে। জীবনের যেকোনো ঘটনা, পরিস্থিতি, সম্পর্ক ইত্যাদির চিন্তা বাকি কাজ আটকে দেবে।

এমন ঘটার কারণ : একের পর এক নতুন চিন্তা মস্তিষ্কে এলোমেলো চিন্তার জন্ম দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চিন্তার এই পুনরাবৃত্তি অনেক নেতিবাচক অবস্থা বয়ে আনে। বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মতো সমস্যা গ্রাস করতে পারে। আসলে সমস্যা সমাধানের চিন্তা এক বিষয়, আর সীমাহীন চিন্তা যেখানে কিছুই করার থাকে না, সেটা আলাদা বিষয়। দ্বিতীয়টার খপ্পরে পড়লে রেহাই নেই।

কালক্ষেপণ করা
রাস্তার যানজট কিংবা ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা—যেকোনো কারণেই আপনার কাজে পৌঁছতে বিলম্ব হতেই পারে। কিন্তু যখন আপনি নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়ার তাগাদায় ব্যস্ত, তখন অস্থিরতা ভর করবে মনে। এতেই আপনি পেরেশানিতে পড়ে যাবেন। তাই কালক্ষেপণ না করে ঠিক সময়ে কাজটি করার চেষ্টা করুন।

এমন ঘটার কারণ : অফিসের কাজ বা ব্যক্তিগত জীবন, যেখানেই হোক বিলম্ব করাটাকে সব মানুষই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। তাই আপনি যখন নিজেই দেরি করছেন, তখন দ্রুত পৌঁছতে অস্থির থাকবে মন।

অবসর না নেওয়া
হয়তো ভাবছেন, অফিসের ডেস্কে বসে একটানা কাজ করলে সমস্যা কোথায়? দিব্যি করেও উঠতে পারবেন। কিন্তু এতে আপনার উৎপাদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। ভুলগুলো বাড়তে থাকবে। সহকর্মীদের কাছ থেকে এই ম্যারাথন কর্মযজ্ঞের প্রশংসা মিলবে। কিন্তু আপনি ক্রমেই মানসিক চাপে পড়তে থাকবেন।

এমন ঘটার কারণ : অবসরের অভাবে যখন উৎপাদনশীলতা কমে আসবে তখন বিরক্তির উদ্রেক ঘটবে। নিজের ওপরই বিরক্তি আসবে। সাধারণ কাজ করতেও অতিরিক্ত মস্তিষ্ক খাটাতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
যদি ঘুমের অভাব মেটাতে দিনের বেলা ঘুমিয়ে পড়েন, তো দেহমনে ক্লান্তি আসবে। অনেকেই রাত জেগে কাজ করে সকালে দেরিতে উঠতে চান। এতে কিন্তু ঘুমের অভাব মেটে না। রাতের গভীর ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।

এমন ঘটার কারণ : ঘুমের অভাব সরাসরি আপনার কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ঘুম না হলে চিন্তাভাবনা পরিষ্কার হবে না। নিজের অজান্তেই অনেক ভুল করে বসবেন। সজাগ থাকলেও ঘুম ঘুম ভাব সব সময় আপনাকে অবসাদে আচ্ছন্ন করে রাখবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY