মো. আবু রায়হান, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলার খাল-বিলগুলি ভরাট হওয়ায় দেশীয় মাছের সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে মৎস্য বিভাগের পরামর্শে মৎস্য চাষীদের ব্যক্তি উদ্যোগে পুকুর খনন করে দেশীয় জাতের মাছ চাষের উৎসাহ প্রদান করেন। এতে অত্র বিলাঞ্চলের বেকার হওয়া পরিবারগুলো মৎস্য চাষের ফলে তারা ব্যাপক লাভবান হয়েছে। ইতিপূর্বে অত্র শেরপুর জেলায় বহু খাল-বিল ও ডুবায় দেশীয় প্রজাতির প্রচুর পরিমানে মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এসমস্ত খাল-বিল, ডুবা ও জলাশয়গুলি ভরাট হয়ে দখলদারদের দখলে চলে যাওয়ায় মাছের অভয়াশ্রমগুলি প্রায় বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘদিন যাবৎ এসমস্ত জলাশয়গুলিতে দেশীয় মাছ দিয়ে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অভ্যান্তরের চাহিদা পূর্ণ করা হতো। কিন্তু এসমস্ত জলাশয়গুলি বিলুপ্তির কারণে দেশীয় মাছের ব্যাপক সংকটের সৃষ্টি হয়। সেই সময় সরকারী ভাবে আমিষ পূরণের জন্য মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে মৎস্য চাষীদেরকে নানা ভাবে উৎসাহিত করা হয়। মৎস্য বিভাগের সহায়তা ও উৎসাহে অত্র জেলার মৎস্য চাষীরা মৎস্য চাষে আগ্রহী হয়ে নিজেদের পুকুরে দেশীয় জাতের মাছ চাষ শুরু করে। এতে মৎস্য চাষীরা দেশীয় জাতের কৈ, মাগুর, সিং, তেলাপিয়া, টেংরা, গুলশা, গুজি, শৈল, বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, ফইলা, টাকি ও মলা মাছসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে। যে কারণে এখন বাজারে প্রচুর পরিমানে স্বল্প মূল্যে দেশীয় জাতের মাছ পাওয়া যায়। এতে একদিকে যেমন আমিষের চাহিদা পূর্ণ হয়েছে, তেমনি কৃষকরা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কালিনগর গ্রামের বাচ্চু মিয়া জানান, সে দেশীয় জাতের মাছ চাষ করে লাভবান হওয়ার ফলে এলাকায় ব্যাপক ভাবে এর সারা পরে। এতে অত্রাঞ্চলের অনেক মৎস্য চাষীরা উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যাপক নিঁচু জমি গুলিতে পাড় বেঁধে মাছ চাষ শুরু করে। অনেক চাষীরা মাছ চাষ করে অল্প সময়ে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। প্রকাশ থাকে যে, মৎস্য চাষীদের বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগ অতি বর্ষনে ও পাহাড়ী ঢলে বন্যায় পুকুরগুলি তলিয়ে যায় অথবা পাড় ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়। এই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্থ্য মৎস্য চাষীদেরকে সরকারী সহায়তা দেওয়া দরকার বলে বিজ্ঞ মহল মনে করে। তাহলে মৎস্য চাষীরা মৎস্য চাষে কখনো উৎসাহ হারাবে না। তা নাহলে মৎস্য চাষীরা ক্ষতির কারণে মাছ উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্থ্য মৎস্য চাষীদেরকে সরকারী সহায়তা ও পৃষ্ট পোষকতা প্রদান করা হলে অত্রাঞ্চলে দেশীয় মৎস্য উৎপাদনের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে।
এব্যাপারে মৎস্য কর্মকর্তা শফিউল আলম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, মৎস্য বিভাগের পৃষ্ট পোষকতার ফলে পূর্বে আমিষের যে ঘাটতি ছিল বর্তমানে তা পূর্ণ হয়ে এখন উৎবৃত্ত হচ্ছে। ঝিনাইগাতী উপজেলায় গত বছর মৎস্য উৎপাদন ছিল ৩১শ মে.টন। এবছর উৎপাদন বেড়ে দাড়িয়েছে ৫১শ মে.টন। উৎবৃত্ত বিগত বছরের চেয়ে এবছর শুধু একটি উপজেলাতেই ২১শ মে.টন মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। শেরপুর জেলায় ৫টি উপজেলা রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় যদি ব্যাপক ভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদনে মৎস্য চাষীরা উৎসাহী হয় তাহলে শেরপুর জেলার মাছের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অভ্যান্তরে যোগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেন। এতে মৎস্য চাষীরাও লাভবান হবে এবং আমিষের চাহিদা ঘাটতি পূরণে ব্যাপক সহায়ক হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY