বিনোদন সংবাদ : যার জন্য সংসার ভেঙ্গেছিলো – জানা গেছে যখন তাজিনের হার্ট অ্যাটাক হয় তখন বাসায় কেবলমাত্র একজন মেকাপ আর্টিস্ট ছিলেন। তিনিই তাজিনের সঙ্গে থাকতেন। তিনিই তাজিনকে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। এ খবর পেয়ে তখনই শুটিং স্পট থেকে হসপিটালে ছুটে যান রওনক হাসান, জাকিয়া বারী মম, হুমায়রা হিমু ও আরও অনেকে।

অনেকে বলছেন, একেই বলে মানবতা। জাকিয়া বারী মমর সাবেক স্বামী এজাজ মুন্না। আর মুন্নার সাবেক স্ত্রী ছিলেন তাজিন। অনেকে মনে করতেন মমর জন্যই ঘর ভেঙ্গেছিল তাজিন-এজাজ মুন্নার। তাজিনের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের কিছুদিন পরই মুন্না মমকে বিয়ে করেন। সম্পর্কচ্ছেদের কারণ হিসেবে এজাজ মুন্নার বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ, মাদকাসক্তি ও পরনারী আসক্তির অভিযোগ তুলেছিলেন। এতে করে তাদের সংসারে ফাটল ধরে।

এরপরে তাজিন বিয়ে করেন ড্রামার রুমি রহমান নামের একজন মিউজিশিয়ানকে। সে সংসারও টিকেনি তাজিনের। আর মমর সংসারটাও ভেঙ্গে যায় একটা সময়ে। এদিকে অভিনেত্রী তাজিনের মৃত্যুকালে আত্মীয় স্বজনদের কেউ পাশে ছিলেন না। কোনো প্রিয়জনের মুখ না দেখেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয় তাজিন আহমেদকে!

তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম। মৃত্যুর খবর জানানোর পাশাপাশি খুব দুঃখ করে নাসিম জানালেন, ‘খারাপ লাগলো এই ভেবে যে মৃত্যুর সময় তাজিনের পরিবারের কেউ ছিলেন না পাশে। এখন পর্যন্ত তাজিনের পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করছি। হাসপাতালে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাখা হবে। ইফতারের পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিব কখন, কোথায় জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’

এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ হঠাৎ করেই অভিনয় থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন। গত বছর ববি হাজ্জাজের নতুন রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে’ (এনডিএম) যোগ দিয়েছিলেন তাজিন আহমেদ। পেয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সম্পাদক (সাংস্কৃতিক) পদ।

তার কর্মজীবন সম্পর্কে সবার কমবেশি জানা আছে। কিন্তু পরিবার পরিজন কোথায় তার? খোঁজ নিয়ে খুব বেশি তথ্য উদ্ধার করা গেল না। জানা গেল, তাজিন আহমেদের পৈত্রিক বাড়ি নোয়াখালী। তবে ছোটবেলায় বাবাকে হারানোয় পাবনায় নানা বাড়িতে বেড়ে ওঠেন তিনি। এরপর কৈশোরে চলে আসেন ঢাকায়। মায়ের পৈতৃক বাড়ি ছিল আদাবরে। সেখানেই মানুষ হতে থাকেন।

পড়ালেখা শেষে শখের বশে শুরু করেন অভিনয়। করেছেন সাংবাদিকতাও। নাটক লিখেছেন টেলিভিশনে। উপস্থাপনাও করেছেন তিনি। একটা সময় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে যোগ দিয়েছেন মঞ্চ নাটকে। কোথায় আছেন তাজিন আহমেদের। বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেল, এই অভিনেত্রীর মা বর্তমানে গাজীপুরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন। তাজিন আহমেদ মাঝে মধ্যে গিয়ে দেখে আসতেন। তারা খালা-মামারা আদাবরে থাকলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তাজিনের।

দাম্পত্য জীবনেও খুব একটা সুখী হতে পারেননি তাজিন। প্রথম জীবনে তাজিন আহমেদ ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন নাট্য নির্মাতা এজাজ মুন্নাকে। খুব বেশিদিন টেকেনি সেই সংসার। এরপর তিনি বিয়ে করেন একজন মিউজিশিয়ানকে। এই সংসারেও হয়তো ঝামেলা ছিল। জীবন প্রদীপ নিভে যাবার আগে দ্বিতীয় স্বামীকেও পাশে পেলেন না তাজিন।

শেষ জীবনে পরিবার-পরিজন থেকে নিজেকে আড়ালে নিয়ে গিয়েছিলেন তাজিন আহমেদ। প্রিয় আঙিনা অভিনয়ের সঙ্গেও ছিল দূরত্ব। অল্প কিছু প্রিয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও সেটা মুঠোফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

বেশ নিরবে নিভৃতেই কাটতো কেটেছে তার শেষ দিনগুলো। সেগুলো যে বিষাদময়, যাতনাময় ছিল তার প্রমাণ মেলে তাজিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো। এই তো ফুরিয়ে গেল মানবজনম! আর কোনো অনুভূতি জ্বলবে না, জ্বালাবে না! কাউকে প্রয়োজনও পড়বে না আর।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY