খেলাধূলা সংবাদ : আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। গতকাল দেরাদুনে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচটিতে আফগান ক্রিকেটারদের ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগের কাছেই টাইগাররা ছিল অনেকটা অসহায়। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের এমন হারে হতাশ টাইগার ভক্তরাও। তাদের এমন হারে কি শুধু ব্যাটিং-বোলিং ভালো না হওয়া দায়ী ছিল, না গেম প্লানেও ঘাটতি ছিল এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে। পাঠকের এমন চাহিদা নিবৃত্ত করতেই হারের কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হলো-

দায়িত্ব না নিয়ে খেলা

সিরিজ শুরু আগেই সাকিব জানিয়েছেন যে এই সিরিজে ফেভারিট আফগানিস্তানই। তাদের কয়েকজন স্পেশালিস্ট খেলোয়াড় আছে যারা টি-টোয়েন্টিতে বেশ ভালো করার ক্ষমতা রাখে। যার কারণে সবার দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।

কিন্তু গতকালের ম্যাচে দায়িত্ব নিয়ে খেলার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি ক্রিকেটারদের মধ্যে। শূন্য রানে তামিমের ফেরার পরে পুরো টিম যেন এলোমেলো হয়ে পড়ে। উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার দিন তাই বিশাল জয়টাও পেয়েছে আফগানরা।

ডেথ ওভারের ব্যর্থতা

গতকালকের ম্যাচের পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছেল বাংলাদেশের ডেথ ওভার। শেষের দিকে রুবেল, রাহি এবং আবুল হাসানের ছন্নছাড়া বোলিংয়ে ম্যাচ তখনই হাতছাড়া হয়ে পড়েছিল। ১৬ ওভার পর্যন্ত দারুণ খেলা বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় শেষ চার ওভারে। ওই চার ওভারে ৬৪ রান নেয় আফগানিস্তান। যা পুরো ম্যাচটার পার্থক্য গড়ে দেয়।

অতিরিক্ত পেস নির্ভর হওয়া

দেরাদুনে রাজিব গান্ধী স্টেডিয়াম নতুন একটি স্টেডিয়াম। এখানে উইকেট পরীক্ষিত না। তাই আগে থেকেই বলা যাচ্ছিল না যে কোন বোলিংটা বেশি কাজ দেবে। তবে বাংলাদেশের পেস বোলারা যখন একের পর এক আফগান ব্যাটসম্যানদের হাতে তুলোধুনো হচ্ছিল তখন স্পিনই এনে দেয় স্বস্তি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মাত্র ১ ওভার বল করে ১ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। সৈকত ১ ওভার বল করে ৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তাছাড়া সাকিবও তার স্পিন বলে ভালো করেন। অন্যদিকে পেসারদের চিত্রটা ছিল ঠিক উল্টো। সৈকত-মাহমুদউল্লাহর ওভার বাকি থাকলেও তাদেরকে আর বল না দিয়ে দেয়া হয় পেসারদের হাতে। যাতে সুযোগ পেয়ে পেসারদের পিটিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় আফগানরা।

বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লিটনের ফেরা

মুশফিকের সঙ্গে যখন ম্যাচ ধরে রাখার লড়াই করছিলেন লিটন তখনই বিতর্কিত এলবিডব্লিউর কবলে পড়েন তিনি। মোহাম্মদ নবির অফ স্পিন রিভার্স হিটে শর্ট থার্ড ম্যানের ওপর দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন লিটন। ব্যাটে খেলতে পারেননি। আম্পায়ার নবির আবেদনে সাড়া দিয়ে এলবিডব্লিউ দেন, যদিও ইম্প্যাক্ট ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। লিটন ফেরায় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগে আরো চাপ পড়ে যায়।

উইকেট হারানোর চাপ

শুরুর দিকেই ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ তামিমকে হারিয়ে বিশাল ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে চাপ কাটিয়ে মুশফিকের ফেরার পথে ১১তম ওভারে আবার বাগড়া বাধায় আফগান স্পিনার রশিদ খান। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৮০ রান। রশিদ খান তখন এসেই পর পর দুই বলে সাজঘরে ফেরান মুশফিক এবং সাব্বিরকে।

তৃতীয় বলে হ্যাটট্রিকের পথে থাকলেও তা থেকে রক্ষা করেন মোসাদ্দেক সৈকত। তবে রশিদের হ্যাটট্রিক না হলেও ততক্ষণে বাংলাদেশের সর্বনাশ যা হবার তা হয়ে গেছে। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় ব্যাটসম্যানদের মাঝে।

যার ফলাফল দেখা যায় ফের রশিদ খানের ওভারেই। ফিরতি ওভারে বল পেয়ে নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়ে সাজঘরে ফেরান সৈকতকে। রশিদদের উজ্জ্বল দিনে ৬ বল বাকি থাকতেই ১২২ রানে গুটিয়ে ৪৫ রানের হার  নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

কোচের শূন্যতা

দীর্ঘ অনেকদিন ধরে টাইগারদের প্রধান কোচের জায়গাটি খালি। এতটা সময় কেটে গেল এখনো কোনো কোচের দেখা পায়নি সাকিব-তামিমরা। একটি ম্যাচে একজন কোচের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার প্রমাণ গতকাল আরও একবার পাওয়া গেল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টাইগারদের মানসিকভাবে সাহায্য দেওয়ার মত কেউ ছিল না। নিজেদের চাপ নিজেরা কাটিয়ে উঠা ক্রিকেটারদের জন্য ছিল অসম্ভব।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY