ভিন্ন খবর : ময়মনসিংহের ১০৯টি স্পট থেকে অসংখ্য মানুষ মাদক নিচ্ছেন। এই স্পটের ১৭টির নিয়ন্ত্রক নারী । মাদকসেবীর বেশির ভাগই তরুণ। ময়মনসিংহের মাদক সেবনের এই ভয়াবহ বিস্তারের কারণ হলো এখানকার প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা মাদক দ্রব্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ থেকে বাদ যায়নি ক্ষোদ পুলিশ সদস্যও । পুলিশের নিষ্কিয়তার জন্য গডফাদাররা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এক শ্রেণীর যুবক ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে কিছু নামধারী নেতাকর্মী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু সংখ্যক পুলিশ ও ধনাঢ্য ব্যক্তির ছেলেরা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে । মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে একদল পুলিশ যারা জড়িত তাদের রয়েছে ৫/৭টি করে মোবাইল সিম । এরা পুলিশের এসআই এবং এএসআই পদের । এরা এই সিম দিয়ে সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে ।এরা লোক দেখানো অভিযানের নামে মাদক উদ্ধারের পর সেই মাদক সোর্সদের দিয়ে আবার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে । অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশ কর্মকর্তারা মাদক চক্রের সাথে জড়িত আবার সখ্যতাও আছে । মাদক কোথা থেকে আসে । কোথায় বিক্রি হয় । ক্রেতা কে । সবই পুলিশের অবগত । কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সিংহভাগ পুলিশ এসব জানেন । যদিও ওসির দাবি তিনি মাত্র ক’দিন আগে এ থানায় যোগদান করেছেন । নতুন এই ওসিকে সঠিক তথ্য দেয়া হচ্ছে না । সহযোগীতা করা হচ্ছে না । এমন অভিযোগও উঠেছে । পুলিশের সংশ্লিষ্টতা এবং মাসোহারার কারণে ময়মনসিংহের মাদক ব্যবসার গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশের কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নেই। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ময়মনসিংহের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্র্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলিতে ছাত্রীদের হেস্টেলে পোঁছে দেয়া হচ্ছে ইয়াবা । ময়মনসিংহের বিভিন্ন মাদকের স্পট থেকে সংশ্লিষ্টরা পুলিশের অভিযানে বারবার গ্রেফতার হলেও থামছে না তাদের এই ব্যবসা। সেখানে রাত দিন চলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল আর গাঁজা বেচাকেনা। স্পটে মাদক কেনাবেচা ও নেশার দৃশ্যাবলি দেখতে পান পুলিশ কর্মকর্তারা। নির্দেশ না থাকায় সেখানে অভিযান চালাতে সাহস করেন না থানা পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা। ময়মনসিংহ শহর ২নং ফাঁড়ি পুলিশের এসআই ফারুক আহমেদ জানান, কাঁচিঝুলির অন্তু, রনি, শান্ত, অপু মাদক ব্যবসায় জড়িত । একই ভাবে ৩নং ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, নুরুদ্দিন, খান নোমান মাদক কারবারি । ১নং ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক রুহুল কদ্দুস জানান, চরকালিবাড়ীর ফকরুদ্দিন, সোহেল, হেলেনা, বেদেনা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ।
তাদের নামে মামলা রুজু আছে। ইতিপূর্বে তাদের গ্রেফতার করে জেলেও পাঠানো হয়েছে। পুলিশি অভিযানও চালানো হয়েছে অনেকবার। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান জানান, ভালুকার শীর্ষ হেরোইন ব্যবসায়ী নুরুল হক মাষ্টার এবং কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকা থেকে ৫শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গতকাল তাকে আটক করে ডিবির এস আই কৃপা সিন্দুর। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে , মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মিন্টু, পুরোহিতপাড়া, চরকালিবাড়ি , ময়লাকান্দায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে এক এ এসআই এর শ্বশুর । নাম তার আলাল উদ্দিন । মাদক ব্যবসায়ীদের দাবি , আমাদের ব্যবসা নিরাপদে এবং আমাদের সার্বিক নিরাপত্তাসহ আমাদেরকে দেখভালের জন্য পুলিশকে প্রতি সপ্তাহে মোটা অঙ্কের ঘুষ অর্থাৎ বখড়া দেই । তাছাড়া কিছু মাদকসেবী পুলিশ সদস্যও আছেন । যারা এখানে এসে মাদক সেবন করেন । ময়মনসিংহ শহরের বলাশপুর এলাকার মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করেন, দাপুটে স¤্রাজ্ঞী লাইলী , রেহানা । তারা একাধিক মামলার আসামিও । জামিনে এসে আবারও এব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে । সূত্রের দাবি এই দুই মহিলা এখন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। এদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা মাদক ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে নিরাপদ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এদের আস্তানা থেকে প্রতিদিন কমবেশি লাখ লাখ টাকার মাদক কেনাবেচা চলে। মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং সরকারি দলের লোকজনের মদদে অনেক স্থানে মাদক ব্যবসা চলছে। এ কারণে অনেক সময় মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে দাবি তাদের। সূত্র জানায়, কিছু ক্লাবে জুয়ার পাশাপাশি এখন মাদকের আখড়া বসছে। তারা গড়ে তুলেছেন ইয়াবার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।এদিকে একটি সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট এখন কিশোরী-তরুণীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে মাদক কারবারে এখন ব্যাপকহারে কিশোরী ও তরুণীরা ব্যবহৃত হচ্ছে। এ দিকে বিপথগামী কিশোরী-তরুণী ও নারীরাও স্বল্প পরিশ্রমে বেশি রোজগারের জন্য মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। কৌশলে মাদক কারবার চলছে এবং সেসব স্থানেও নারীরা এই কারবারের সাথে জড়িত রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ জেলাশহরসহ জেলার উপজেলার এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাদক কারবারে কিশোরী, তরুণী ও নারীরা ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক এলাকায় নারীরাই এখন মাদক মাফিয়া। ওই সব এলাকার মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, দৃষ্টি এড়াতেই এখন মাদক কারবারে বিপুল নারীকে যুক্ত করা হয়েছে।কেনাবেচা থেকে শুরু করে মাদক আনানেয়ার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে নারী। নিরাপদে কারবার চালিয়ে নিতেই মাদক মাফিয়াদের এই কৌশল বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওই কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, নারী মাদক কারবারিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তারা গ্রেফতার এড়িয়ে নির্বিঘেœ এই কারবার চালিয়ে নিতে পারে। অনেক নারী মাদক কারবারি আছে যারা কখনোই গ্রেফতার হয়নি। কিন্তু ঠিকই তারা বছরের পর বছর এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। ময়মনসিংহের রেলস্টেশনে চলছে ইয়াবা, প্যাথেড্রিন ব্যবসা । ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ, ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউর রহমান, গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান, পাগলা থানার ওসি মোখলেছুর রহমান আকন্দ, নান্দাইল থানার ওসি ইউনুছ আলী ফকির জানান, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান প্রতিদিন চালিয়ে যাচ্ছি । তবে জেলার অন্যান্য থানাগুলিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন । সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ময়মনসিংহের অনেক অভিজাত হোটেল মাদক বিক্রি হচ্ছে। ওই সব হোটেল ভেতরে বসেই ইয়াবা সেবনের ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সুন্দরী তরুণীরা। ওই সব হোটেলে সাধারণের প্রবেশাধিকারও নেই। এসব হোটেলের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কোনো নজর নেই।
ময়মনসিংহ পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি জানান, মাদক সংশ্লিষ্টদের সাথে কোন আপোষ নেই । এদের সাথে পুলিশও জড়িত থাকলে তাদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY