মো. আবু রায়হান, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার মানুষেরা সবজি চাষ করে ভাগ্য বদলে চেষ্টা করেও লাভবান হলো না। সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে কিন্তু সবজির ভাল দাম না থাকায় কৃষকরা লাভবান হতে পারলো না। এই পাহাড়ি এলাকায় এক সময় বিস্তৃর্ন জমি পতিত থাকতো। আর এখন ওই পতিত ভূমিতে নানা জাতের সবজি চাষ করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অভ্যান্তরে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে সুরিহারা, বগাডুবি, হাতীবান্দা, বনগাঁও জিগাতলা, কোনাগাঁও, পাইকুড়া, কান্দুলী, কালিনগর, ধানশাইল, গোমড়া, রাংটিয়া ও হলদিগ্রাম ও হলিদবাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাবে চাষ সবজি চাষ করেছে। কদু (দুধকুশি), গাছ করলা, ও শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজার মূল্য একেবারেই কমে যাওয়া কৃষকরা যে বুক ভরা আশা নিয়ে ব্যাপক আকারে যে সবজি চাষ করেছিল তা আর হলো না। প্রতিদিন হাজার হাজার মন কদু (দুধকুশি), করলা ও শসা উক্ত গ্রামগুলি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হচ্ছে । প্রতি কেজি কদুর (দুধকুশি) মূল্য ৩/৪ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮/১০ টাকা এবং করলা ৭/৮ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সীমান্তের পাহাড়ী অঞ্চলে যে সমস্ত সবজি চাষাবাদ হচ্ছে বেগুন, চাল কোমড়, মিষ্টি লাউ, দেশী লাউ বরবটি, সীম, চিচিঙ্গা, ঢেরস, টমেটো, কদু, গাঙ্গা, পোটল, পালং শাক, পুই শাক, লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি। এই সমস্ত সবজিও মূল্য একই রকম ভাবে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ভালুকা গ্রামের আবু বক্কর, ফাকরাবাদ গ্রামের খোশনবি, সুরিহারা গ্রামের ছানা মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রথম পর্যায়ে সবজির মূল্য কিছুটা ভাল থাকায় তারা অনেকটায় লাভবান হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই সমস্ত সবজির মূল্য একবারে কম দামে বিক্রি করায় তাদের লাভতো দূরের কথা সবজির উৎপাদন খরচ তুলায় কঠিন হয়ে পড়েছে। অত্রাঞ্চলে যদি সরকারী ভাবে একটি হিমাগার থাকতো তাহলে কৃষকদের পানির দামে উক্ত সবজি বিক্রি করতে হতো না। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেত, তেমনি প্রয়োজনের সময় হিমাগার থেকে এই সমস্ত সবজি বাজার জাত করা যেত।
জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবর্দী উপজেলার পাহাড়ি প্রায় ৫০টি গ্রামে এ সব্জীর চাষ করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ করে থাকে। এসব এলাকার সবজির চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে নানা সহযোগীতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।

প্রকাশ থাকে যে, অত্রাঞ্চলে বিগত সময়ে নানা জাতের সবজি অন্যান্য স্থান থেকে আমদানী করে চাহিদা মিটানো হতো। আর বর্তমানে এই অঞ্চলের সবজি দিয়ে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজি চাহিদায় যোগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই অত্র এলাকার সবজি চাষীদের দাবী অত্র শেরপুর জেলার সীমান্ত অঞ্চলে দরিদ্র কৃষকের উৎপাদিত সবজি রক্ষায় সরকারী ভাবে একটি বড় হিমাগার স্থাপন করা অত্যান্ত জরুরী দরকার।

এব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অত্রাঞ্চলের সবজি খুবই মান-সম্মত। সবজির চাহিদায় অত্রাঞ্চলের কৃষকের উৎপাদিত সবজি রক্ষার্থে একটি হিমাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY