খেলাধূলা সংবাদ : সিলেট টেস্টে সবে দ্বিতীয় দিন শেষ হয়েছে। তবে এরই মধ্যে হার দেখছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের ২৮২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংস মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে গেছে টাইগারারা। ফলোঅন এড়াতে পারলেও হার এড়াতে অসম্ভব কিছু করতে হবে স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ে মাত্র ১ রান যোগ করার পর বেল তুলে নেন আম্পায়ার। ১৪০ রানে এগিয়ে থাকায় স্বস্তির ঢেঁকুর তুলেই মাঠ সফরকারীরা।

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানিয়া দল। তবে ক্রিকেটের অভিজাত ক্লাব টেস্টে নিজেদের সেভাবে প্রমাণ করতে পারছেন না টাইগারা। চলতি বছরে ঘরের মাঠে শ্রীলংকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে দুটি টেস্ট সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পাবে কি না সন্দেহ।

সিলেট টেস্টের চিত্র অন্তত তাই বলছে। ২৮২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের তোপের মুখে পড়েন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। দুর্দশার শুরুটা ইমরুল কায়েসকে দিয়ে।  চতুর্থ ওভারের পঞ্চম  ডেলিভারিতেই তেন্ডাই চেতারা বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইমরুল (৫)। একই পথে হাটলেন আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস। কাইল জার্ভিসের বলে লুজ শট খেলতে গিয়ে মাত্র ৯ রানে উইকেটকিপার চাকাভার হাতে আটকা পড়লেন তিনি।

চারে নামা নাজমুল শান্তকেও (৫) থিতু হতে দেননি চাতারা। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারায় ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপারের হাতে। জিম্বাবুয়ের সফল রিভিউতে মাত্র ৫ রানে ফেরেন শান্ত।

শান্তর বিদায়ের পর দায়িত্ব নিতে মাঠে নামেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু ছন্দে থাকা চাতারা তুলে নিয়েছেন তাকেও (০)। তার বিদায়ে ১৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে বাংলাদেশ।

দিশেহারা বাংলাদেশের আশা জাগিয়েছিলেন মুশফিক-মুমিনুল। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে ৩০ রান যোগ করার পর সিকান্দার রাজার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। ফেরার আগে ২৪ বলে ১১ রান করেছেন তিনি। মাত্র ৪৯ রানে অর্ধেক ব্যাটসম্যানদের হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

এরপর আরিফুলকে নিয়ে জুটি বাঁধেন মুশফিক। ২৯ রান যোগ করার পর মুশফিকের আউটে ভাঙে সেই জুটি। চা-বিরতির পর কাইল জারভিস শিকার হন তিনি। একটু বাড়তি লাফানো ইন সুইঙ্গার ঠিক মতো খেলতে পারেননি মুশফিক। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় চাকাভার গ্লাভসে। ৫৪ বলে পাঁচ চারে ৩১ রান করে ফেরেন মুশফিক। ৭৮ রানে স্বাগতিকরা হারায় ষষ্ঠ উইকেট।

মিরাজকে নিয়ে নতুন যুদ্ধ শুরু হয় আরিফুলের। তাদের ব্যাটে ভর করে একশ’র কোটা পার করে বাংলাদেশ। কিন্তু দারুণ খেলতে থাকা মিরাজ কাটা পড়েন অকেশনাল বোলার শন উইলিয়ামসের হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর ১৩১ রানে অষ্টম উইকেট তাইজুলকে (৮) হারায় বাংলাদেশ। তাইজুলের পর চার রানে ফেরেন অপুও। ১৪৩ রানে রাহীর রান আউটে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

দলের হয়ে একাই লড়লেন অভিষিক্ত আরিফুল। দল যখন চরম বিপদে তখন চাপ সামলে একাই লড়ে গেছেন তিনি। যোগ্য সঙ্গীর অভাবে বড় জুটি গড়তে না পারলেও বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান আসে তারই ব্যাট থেকে। ছিলেন অপরাজিত।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে ১৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন তেন্ডাই চাতারা। ৩৫ রান দিয়ে সমান তিন উইকেট পান সিকান্দার রাজাও। আর ২৮ রানে কাইল জারভিসের শিকার ২ উইকেট।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৮২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ৫ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল সফরকারীরা। কিন্তু রবিবার সকালে বাকি পাঁচ উইকেট নিয়ে মাত্র ৪৬ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম দিন ২ উইকেট পান তিনি। দ্বিতীয় দিন ৫ উইকেটের চারটিই গেছে তার ঝুলিতে। মোট ১০৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট দখল করেন তিনি। ২৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার নাজমুল অপুর। ফাস্ট বোলার আবু জায়েদ রাহী নেন একটি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১১৭.৩ ওভারে ২৮২ (আগের দিন ২৩৬/৫) (মুর ৬৩*, চাকাভা ২৮, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৪, মাভুটা ৩, জার্ভিস ৪, চাটারা ০; আবু জায়েদ ২১-৩-৬৮-১, তাইজুল ৩৯.৩-৭-১০৮-৬, আরিফুল ৪-১-৭-০, মিরাজ ২৭-৮-৪৫-০, নাজমুল অপু ২৩-৬-৪৯-২, মাহমুদউল্লাহ ৩-০-৩-১)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫১ ওভারে ১৪৩ (লিটন কুমার দাস ৯, ইমরুল কায়েস ৫, মুমিনুল হক ১১, নাজমুল শান্ত ৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০, মুশফিকুর রহিম ৩১, আরিফুল হক ৪১*, মেহেদী মিরাজ ২১, তাইজুল ৮, নাজমুল ইসলাম ৪, রাহী ০; কাইল জার্ভিস ১০-২-২৮-২, চাতারা ১০-৪-১৯-৩, সিকান্দার রাজা ১২-২-৩৫-৩, শন উইলিয়ামস ৪-০-৫-১।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY