এম ইউসুফ ( মুক্তাগাছা ময়মনসিংহ)
স্কুলের মাঠ দখল করে বাড়ি বানানোর অভিযোগ উঠেছে খুদ স্কুলেরই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। জোরকরে মাঠের মাঝখানে বেড়া দিয়ে বাড়ি বানানোর কাজ করছেন সভাপতি। এলাকাবাসী বাঁধা দিলেও কারো বাঁধা মানছেন না তিনি। এতে বন্ধ হয়ে গেল শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার মাঠ। এ নিয়ে এলাকাবাসীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা স্কুলের মাঠ মুক্ত করতে বিক্ষোভও করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মুক্তাগাছার হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ১৩০ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম হরিপুর। ১৯৮৬ সালে ৫২ শতাংশ জমির ওপর স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের জমি দান করেন ওই স্কুলেরই সাবেক সহকারি শিক্ষক আব্দুল কাদের। স্কুল প্রতিষ্ঠিত করতে হলে একসাথে ৫২ শতাংশ জমির প্রয়োজন হয় সরকারিভাবে। আর স্কুল প্রতিষ্ঠাকালীন সময় কাগজপত্রে ৫২ শতাংশ জমির কাগজ দেখান আব্দুল কাদের। প্রথমে স্কুলটি রেজিষ্ট্রেশনভূক্ত হয়। পরবর্তীতে স্কুলটি সরকারি করণের স্বীকৃতি পায়। জমি দান করেই তৎকালীন সময় স্কুলের সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান আব্দুল কাদের। ২০১৬ সালের নভেম্বরে তিনি চাকুরি থেকে অবসর নেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন তারই স্ত্রী ফাতেমা বেগম। হঠাৎ করেই কয়েকদিন আগে স্কুলের মাঠের মাঝখানে বেড়া দিয়ে বাড়ি বানানোর কাজ শুরু করেন ফাতেমা বেগম ও তার স্বামী আব্দুল কাদের। এতে স্কুলের অর্ধেক মাঠ দখল হয়ে যাওয়ায় ৫২ শতাংশ জমির মধ্যে থেকে যায় স্কুলের ভবনসহ মাত্র ১৬ শতাংশ জমি। আর কাগজপত্রে স্কুলের জমি দেখানো হয়েছে স্কুল থেকে অনেক দূরের বিভিন্ন এলাকায়। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মাঠ আর রইল না। বন্ধ হয়ে গেল তাদের খেলাধূলা। পাশাপাশি এটি ছিল একটি ভোট কেন্দ্র। মাঠ দখল হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে কেন্দ্রটিও টিকানো কঠিন হয়ে পড়বে। বেকায়দায় পড়বে এ এলাকার ভোটাররা। এ নিয়ে এলাকাবাসী তাদের বাড়ি বানানোর কাজে বাঁধা দেয়। এলাকাবাসীর বাঁধা না মেনেই তারা বাড়ি বানানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এলাকাবাসীর কাছে জমির কাগজ দেখিয়ে তাদের জমি বলে দাবি করছেন। এ নিয়ে এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুরো গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে মাঠ দখলের প্রতিবাদ জানান। স্কুলের মাঠেই বিক্ষোভ করেন গ্রামবাসী। এর পরও বাড়ি বানানোর কাজ বন্ধ করেনি স্কুলের সভাপতি ফাতেমা বেগম।

এলাকার বাসিন্দা ও কৃষকলীগ নেতা ফজলুল হক হীরা বলেন, স্কুলটি প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর ধরে আমরা দেখি আসছি পুরো মাঠটি স্কুলের। এ স্কুল মাঠেই শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনসভার আয়োজন করা হয়। অথচ হঠাৎ করেই স্কুল কমিটির সভাপতি নিজেই বেড়া দিয়ে বাড়ি বানাচ্ছেন। এতে এ মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধূলা থেকে বঞ্চিত হবে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, এটি ৮নং ওয়ার্ডের একটি ভোট কেন্দ্র। ভোটের সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা তাদের ভোট প্রদান করেন। অথচ মাঠটি জোর করে দখল করায় ভবিষ্যতে ভোট কেন্দ্রটি টিকানো কঠিন হয়ে পড়বে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মছিহুর রহমান খাঁন বলেন, স্কুলটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় স্কুলের সাবেক সহকারি শিক্ষক আব্দুল কাদের প্রতারণা করেছেন। তিনি তখন ৫২ শতাংশ জমির কাগজ দেখিয়ে স্কুলে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেন। স্কুল থেকে অবসর নিয়ে এখন তিনি টালবাহানা করছেন। তিনি জোর করে তার স্ত্রীকে নিয়ে স্কুল মাঠের মাঝখানে বেড়া দিয়ে মাঠ দখল করে বাড়ি নির্মাণের কাজ করছেন।
স্কুলের মাঠ দখল করার বিষয়টি অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফাতেমা বেগম বলেন, তাদের বৈধ কাগজপত্র জমিতেই তারা বাড়ি বানাচ্ছেন। এতে স্কুলের ক্ষতি হলো, না লাভ হলো এটা দেখার বিষয় না। এছাড়া আমরা একাই কেন সকল জমি দান করব, গ্রামবাসী তারাও কিছু জমি দান করুক।
মুক্তাগাছার ইউএনও সুবর্ণা সরকার সমকালকে বলেন, স্কুল মাঠের জমির কাগজ নিয়ে কিছুটা ঝামেলা রয়েছে, এর পরও সরেজমিনে স্কুলের মাঠ পরিদর্শন করে মাঠটি দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY