মুক্তাগাছা(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের বিরোধের জেরে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও তারাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল আটানী বাজার থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে আটানী বাজার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মশিউর, তারাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, খেরুয়াজানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম নীপু, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক শফিকুল ইসলাম নাসির, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমীন, ওলামা লীগের আহবায়ক আলমগীর হোসেন, উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম, শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান এরশাদ, তাজুল ইসলাম স্বপন, ছাত্রলীগ নেতা আক্রাম হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মিছিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূল পর্যায়ের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি কেএম খালিদ বাবু, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনকে আওয়ামীলীগ ধ্বংসের নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে দল থেকে তাদেরকে বহিস্কারের দাবী জানান। মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অনতিবিলম্বে নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের মেয়ের জামাতা উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মনি স্থানীয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। শ্বশুরের সুবাদে সে এখন যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ঢুকে নানা অপকর্ম করছে। নেতারা তার বহিস্কার দাবী করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, মুক্তাগাছায় আওয়ামীলীগকে বাঁচাতে হলে বর্তমান কমিটিকে ভেঙ্গে দিয়ে দুর্নীতিবাজমুক্ত আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কেএম খালিদ বাবু ও বিল্লাল হোসেন সরকারকে আওয়ামীলীগ থেকে বিতারিত না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর শহরে একটি মারামারির ঘটনা সিরাজুল ইসলাম নামের এক যুবক আহত হলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও তারাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৯ নেতা-কর্মীকে আসামী করে মুক্তাগাছা থানায় একটি মামলা হয়। পরে তারা আদালত থেকে জামিন নেন। এ মামলাকে আওয়ামীলীগকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করতে উদ্দেশ্য প্রণোতিভাবে করা মিথ্যা মামলা হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়।
##
সিরাজুল হক সরকার
মুক্ত্গাাছা, ময়মনসিংহ।
তারিখ: ১৭-১০-১৭
মোবা: ০১৭১৪৭৪৭৬৯৬

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY